চাটখিলের সাংস্কৃতিক অংগন বেশ সমৃদ্ধ। বিশেষ করে চাটখিলের নাট্যাঙ্গন ১৯৮৬ সালের পর হতে উত্তরোত্তর উন্নতি লাভ করছে। প্রধান দু'টি নাট্য গোষ্ঠী- ১. উত্তরণ নাট্য গোষ্ঠী ২. বৈজয়ন্তী নাট্য গোষ্ঠী এ ছাড়ও চাটখিল ফ্রেন্ডস ক্লাব প্রতি বছর নাটক করে দর্শকের মন কেড়েছে বলে আমরা মূল্যায়ন করি। নাট্য গোষ্ঠী গুলো প্রতি বছর বিজয়ের মাসে মঞ্চ নাটক করে। আবুল কালাম আজাদ উত্তরণ নাট্য গোষ্ঠীর সভাপতি আর এম. মাসুদ আলম বৈজয়ন্তী নাট্য গোষ্ঠীর সভাপতির দায়িত্বে আছেন। সাংসকৃতিক সংগঠন হিসেবে যারা কাজ করছে- ১. চাটখিল সাংস্কৃতিক সংসদ ২. ফুল কুড়িঁ খেলাঘর আসর ৩. সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন 'অন্বেষা' ৪. সবুজ কুড়িঁ খেলাঘর আসর।
প্যারী মোহন সেনের মতে, ফেনী নদীর পশ্চিম, মেঘনা নদীর পূর্ব, ত্রিপুরা (কুমিল্লা) জেলার অর্ন্তগত মেহারের দক্ষিণ, এই বিস্তীর্ণ ভূভাগই সমুদ্র গর্ভজাত। তাহলে আমাদের এই চাটখিল একদা সমুদ্র গর্ভে ছিল এ কথা সত্য।
‘নোয়াখালী জেলার মূল ভূ-খন্ডের দক্ষিণ পূর্ব কোণে ছোট ফেনী নদীর মোহনা হতে চাঁদপুর পর্যন্ত একটি অখন্ড উচ্চভূমি রেয়ছে। বন্যার সময় ইহার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয় না।’এ প্রসঙ্গে ঐহিহাসিক হান্টারের মতে, ”ব-দ্বীপ সৃষ্টির সময় ভুমিকম্প হইতেছিল বলিয়া মনে হয়। যে কারণে মুমিনশাহীর উত্তর-পূর্ব দিকে পাহাড় নীচু হইয়া গিয়াছে এবং কুমিল্লা ও সিলহটের উত্তরের মাটি দাবিয় গিয়া বড় বড় বিলে (হাওরের) সৃষ্টি হইয়াছে, একই কারণে নোয়াখালীর মাটিও উঁচু হইয়া পড়িয়াছে।” এটিই ছিলো প্রাচীন ভূলুয়া। যাই হোক ছোট ফেনী নদীর মোহনা হতে চাঁদপুর পর্যন্ত যে উচু ভূখন্ড তার উত্তর পাশ দিয়ে সম্ভবত মেঘনা নদীর একটি শাখা প্রবহীত হত। ১২০৪ খ্রী.বখতিয়ার খিলজীযখন পশ্চিম বঙ্গ জয় করেন তখন অনেক গন্যমান্য হিন্দু পূর্ব ও দক্ষিণ বঙ্গে আশ্রয় নেন। বিশ্বাস্বর শুর সম্ভবত তখন এ পথেই ভূলুয়ায় এসেছিলেন।প্রবীনদের মূখে শুনেছি বর্তমানের যে বগাদিয়া (দিয়া মানে দ্বীপ) এখানে এসে কুঁয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ান কারণে বিশ্বাস্বর শুর যাত্রা বিরতী করেন এবং স্বপ্নে আদেশ পেয়ে ভূলুয়ার রাজা হওয়ার জন্য ‘জল মগ্ন’ দেবীর পূঁজা করেন।
ভূলুয়ার উত্তর হয়ে পূর্ব দিকে প্রবাহিত নদীটির কি নাম ছিল কেউ সঠিকভাবে বলতে পারে না। তবে নদী যে ছিল এ ব্যাপারে লোকমূখে প্রচার আছে। এ প্রসংগে ড. আবদুল কাদির সাহেব বলেন, “১৫০/২০০ বছর পূর্বে এখানে একটি নদীছিল। ইহা যে নলচরার মাইল খানিক দক্ষিণ-পূর্ব দিকস্থ মেঘাজলা দিয়া প্রবাহিত হইত, তাহা নিশ্চিত। প্রবীনদের মূখে শুনিয়াছি, তিয়ারির নাগ দক্ষিণস্থ আবদুল্লাহ পুরের ‘সবিজান’ (মনো) হইতে উত্তরে নিয়ালা পর্যন্ত দেড় মাইল প্রশস্থ ছিল এবং খেয়া নৌকায় পার হইতে সেকালেও চারি আনা লাগিত।”
এটি সম্ভবত চাঁদপুরের উত্তরাংশ দিয়ে পূর্ব দিক, রামগঞ্জের উত্তর-পূর্ব, চাটখিল, বেগমগঞ্জ, সেনবাগ হয়ে ফেনীতে ফেনী নদীর সাথে মিশে দক্ষিণমূখী হয়ে সাগরে পড়েছিল। তবে এটি সম্ভবত ভাঙ্গনমূখী নদী ছিল। তবে কালের বিবর্তনে এ নদীতে পলি জমে চর জেগে ওঠে এবং স্রোত হারিয়ে ছোট নদীতে পরিনত হয়।
এখন আর নদী নেই আছে তার স্মৃতি চিহ্ন। রামগঞ্জ থানার পশ্চিম দিকের ‘কমরদিয়’ (আগেই বলেছি দিয়া মানে দ্বীপ), ‘হরির চর’, বীরেন্দ্র রোডের উত্তরে ‘শিরন্দ্বী’ ( দ্বী হচ্ছে দ্বীপ শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ), চাটখিলের উত্তরে নলচরা ( চরা মানে চর), দক্ষিণে লাম চর, সেনবাগ থানার কল্যাণদ্বী, ছাগল নাইয়া থানার কচিদিয়া, ফেনী থানার যোগদিয়া এগুলোই হারিয়ে যাওয়া সেই নদীটির রেখে যাওয়া চিহ্ন।
১৭৭২ সালে ভুলুয়া জেলা গঠিত হয়। ১৭৭৯সনে ইহাকে মুমিনশাহী জেলার অর্ন্তরভুক্ত করা হয় কিন্তু ঐ বছর ত্রিপুরা জেলা ঘটিত হলে ইহাকে ত্রিপুরার সাথে সংযুক্ত করা হয়। ১৮২২ সনে নোয়াখালীকে ত্রিপুরা হতে পুথক করে হাতিয়, সন্দ্বীপ নিয়ে নতুন জেলা গঠিত হয়। ১৯৩০ সনে এখানে একজন কালেক্টর নিয়োগ করা হয়। ১৯৭৯ সনে রামগঞ্জ থানাকে দুই ভাগ করে পূর্বাংশ চাটখিলকে থানায় রূপান্তর করা হয়।
১৯৯১ সালের হিসাব অনুযায়ী চাটখিল উপজেলার জন সংখ্যা ১৯৪১৮৫ জন। পুরুষ ৪৮.৪৩% এবং মহিলা ৫১.৫৭%। আঠার বছরের অধিক বয়সের জন সংখ্যা ৯০৪৮৪ জন। এখানে শিক্ষার হার ৫২.১%। বাংলাদেশের শিক্ষার হার ৩২.৪%। চাটখিলে মোট একটি পৌর সভা ও ৯টি ইউনিয়ন রয়েছে। চাটখিল পৌর সভার আয়তন ৬.০৭ বর্গ কিলোমিটার এবং জন সংখ্যা ২৮৮১৭ জন। পৌর এলাকার শিক্ষার হার ৫৪.৮%। পৌর এলাকায় পুরুষের হার ৪৮.৪৫% এবং মহিলা হার ৫১.৫৫%।