| চৈত্র সংক্রান্তি বাংলার লোকসংস্কৃতির এমন এক অনুষঙ্গ যার ঐতিহ্যবাহী লোক-উৎসবের আমেজে নকলা উপজেলা ছিল বর্ণিল। নানা আয়োজন বিশেষ করে হালখাতার জন্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সাজানো, লাঠিখেলা, সঙসাজা, নৃত্য, গান, আবৃত্তি, শোভাযাত্রা সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নকলায় উদ্যাপিত হয় চৈত্র সংক্রান্তি। হিন্দু সম্প্রদায়ের চড়ক পূজা চৈত্র সংক্রান্তির এক প্রাচীন ঐতিহ্য। এ ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে উপজেলার পোদ্দার বাড়ীতে চড়ক পূজা এবং রিহিলায় কুুস্তি সহ মেলার আয়োজন করে আসছে সেকাল থেকেই। ১৪২০ সালের শেষ দিনটাকে বিদায়ের পাশাপাশি থাকে বর্ষবরণের নানা আয়োজন। | ১লা বৈশাখকে ঘিরে উপজেলার সকল শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে উৎসাহ উদ্দিপনার কমতি ছিল না। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাজানো হয় নানান আল্পনার সাজে। এ উপলক্ষ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ভিন্ন ভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করে। নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে উপজেলা চেয়ারম্যান শাহ্ মোঃ বোরহান উদ্দিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আবুল কালাম আজদ, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগণ, উপজেলার কর্মরত কর্মকর্তা/কর্মচারীগণ, পৌরসভার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার লোকজন মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ গ্রহন করে। শোভাযাত্রাটি সকাল ১০টায় উপজেলা মুক্ত মঞ্চ থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে নকলা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে শেষ হয়। দিন ব্যাপী বৈশাখী মেলা ও সাংস্কৃতি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে নকলা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গনে ছাত্র, শিক্ষক ও কমিটি কর্তৃক আয়োজিত মেলায় “বন্ধু আড্ডা গাণ”এরমত বেশ ক’টি স্টল বসে। এসব স্টলে বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন পণ্যের প্রদর্শনী ও বেচাকেনা সহ পান্তা-ইলিশের ধুম বিকিকিনি চলে। তাছাড়া উপজেলা মুক্ত মঞ্চে উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজন করা হয় পান্তা-ইলিশ ভোজ ও দিন ব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। রাতদিন কাজ করেও যেন কারো কোন ক্লান্তি নেই, ছিলনা আনন্দের কমতিও। নকলা মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শোভাযাত্রায় মাছ, লক্ষ্মী পেঁচা, পাখি, মুখোশ, বাঘ, সিংহ সহ অন্যান্যদের তৈরী বিভিন্ন সরাচিত্র এবারের আয়োজনকে অন্যরকম আমেজ দিয়েছে। ১লা বৈশাখ বাঙালি ঐতিহ্যের সবচেয়ে বড় উৎসব। নতুন বছর সবার জীবনে মঙ্গল বয়ে আনবে এটাই আমাদের দৃঢ় প্রত্যাশা। এমনটাই আশা ব্যক্ত করেন শিক্ষক মোঃ মোশরাফ হোসেন ও আইয়ুব খান, সাংবাদিক মমিনুল ইসলাম সুমন ও তৌফিকুর রহমান জুয়েল সহ সূধীজনরা। |



0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন